‘এ মুহূর্তে আমার চেয়ে বড় দেশপ্রেমী কে?’ ভেনিস থেকে পুরস্কার নিয়ে ফিরে প্রশ্ন চলচ্চিত্রকার অনুপর্ণার

Spread the love

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে ওরিজ়োন্তি বিভাগে প্রথম বার সেরা পরিচালকের পুরস্কার ভারতীয়ের হাতে। সে মুহূর্তের রেশ এখনও কাটেনি পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায়ের। তার মধ্যেই ‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ়’-এর স্রষ্টা কথা বললেন তাঁর জীবন, পরিবেশ, পরিবার, পুজোর পরিকল্পনা নিয়ে।

প্রথম বার ওরিজ়োন্তি বিভাগে সেরা পরিচালকের পুরস্কার উঠল কোনও ভারতীয়ের হাতে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে অস্পষ্ট, কম্পিত গলায় কৃতজ্ঞতা স্বীকার এবং শোষিতদের পাশে দাঁড়ানোর শপথগ্রহণ। অবিশ্বাস্য সেই মুহূর্তের রেশ এখনও কাটেনি। এখনও পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায়ের গলা কেঁপে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। রাতারাতি জীবনটা যেন পাল্টে গিয়েছে ‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ়’-এর স্রষ্টার।

প্রশ্ন: হঠাৎ জীবনটা যেন সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে! সামলাতে অসুবিধা হচ্ছে না?

অনুপর্ণা: যেটা সবচেয়ে বেশি অন্য রকম মনে হচ্ছে, তা হল আমার প্রতি লোকের ব্যবহার। এত সম্মান কখনও পাইনি। ভালবাসাও পাচ্ছি অনেক। সমাজ যে আমাকে এত অভিজ্ঞতার সুযোগ দিচ্ছে, তার জন্য আমি ভাগ্যবান বলে মনে করছি নিজেকে। বাকিটা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি। ঘোরেই আছি মনে হচ্ছে। তবে এ সবের মাঝে আক্রমণও আসছে প্রচুর। পুরস্কার পাওয়ার পর মঞ্চে উঠে আমি মানবতার খাতিরে কয়েকটা কথা বলেছিলাম, সেটিতে রাজনৈতিক রং লাগানোর চেষ্টা চলছে চার দিক থেকে। কিন্তু আমি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য নই, প্রতিনিধি নই। আমি কেবল আমার জন্মভূমির প্রতিনিধি হয়ে সেখানে গিয়েছি।

প্রশ্ন: প্যালেস্তাইনের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন, সে সব নিয়েই আক্রমণ শুরু হয়েছে?

অনুপর্ণা: হ্যাঁ! অনেকের ধারণা, প্যালেস্তাইনে ঘটে চলা নৃশংস গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই আমাদের দেশের শাসকদলের বিরোধিতা করা। কিন্তু আমি তো কেবল হাজার হাজার শিশু এবং নির্দোষদের নৃশংস ভাবে হত্যা করার বিরোধিতা করেছি। নিজের দেশের কোনও রাজনৈতিক দলকে আক্রমণ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। শাসকদলের সদস্যেরাও আমাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমার আশপাশে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁদের মানসিকতায় এই হিংস্রতা প্রকাশ পায়। আমি কেবল সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। আমি মনে করি, এই মুহূর্তে আমার চেয়ে বড় দেশপ্রেমী কেউ নেই। কারণ, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে কেবল একটি ভারতীয় ছবির জন্য দেশের জাতীয় পতাকা উড়েছে। আর সেই কৃতিত্বটুকু তো আমার পাওনা, তাই না?

প্রশ্ন: চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার ঘোষণার মুহূর্তটা কি ছিল শুধুই স্বপ্নের মতো?

অন্নপুর্ণা: সত্যিই স্বপ্নের মতো। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অসম্ভব ভয় পাচ্ছিলাম। উঠে দাঁড়ানোর পর মনে হচ্ছিল, হয়তো আমি পড়ে যাব লুটিয়ে। মাইক হাতে পেয়ে মনে হচ্ছিল, সবার নাম মনে করে করে বলতে পারব তো? কারও নাম বাদ যাবে না তো? কত কিছু যে চলছিল!

প্রশ্ন: মা, বাবা এবং বোন কী বলছেন? আর পুরুলিয়ার আত্মীয়স্বজন?

অনুপর্ণা: খুব খুশি। খুবই। মা তো উৎফুল্ল। পুরুলিয়া থেকে কত কত মানুষ শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানাচ্ছেন! আসলে অনেক বছর আগে ছবি বানানোর জন্যই পুরুলিয়া ছেড়ে এসেছিলাম। কিন্তু প্রথম ছবি সেই পুরুলিয়াতে গিয়েই বানাই।